ভাস্কর্যের ভারত্ব

১. ভাস্কর্য বলি আর মূর্তি— দুটোর শেকড় কিন্তু দিনশেষে একই উৎস থেকে উৎসারিত, এবং তা হলো— ব্যক্তির সম্মানকে যুগের পর যুগ টিকিয়ে রাখতে, তা থেকে উৎসাহিত হতে, অনুপ্রেরণা পেতে তার একটা প্রতিমূর্তি গড়ে নিয়ে নিজেদের সামনে রেখে দেওয়া। মূর্তিপূজার গোঁড়া কোথায় প্রোথিত তা কুরআন বেশ সুস্পষ্টভাবে বিধৃত করেছে, এবং সেই সূত্রের শুরুর ঘটনায় কোনোভাবেই পূজোর মূর্তির দেখা মিলে না, সেখানে বরং দেখা মিলে ব্যক্তি সম্মান তুলে ধরবার সম্মানার্থে গড়ে তোলা ভাস্কর্যের। নূহ আলাইহিস সালামের কওমেরা তাদের সময়কার মহাত্মা মনীষীদের মৃত্যুর পরে, তাদের মহাজীবনকে স্মরণীয় করে রাখতে তাদের প্রতিমূর্তি গড়ে তুলে যা কালক্রমে একসময় পূজোর বস্তুতে পরিণত হয়। এভাবেই একসময়কার ভাস্কর্য পরিণত হয়েছে মূর্তিতে। আর, ভাস্কর্য নির্মাণ করে ব্যক্তি-জীবনকে স্মরণীয় করে রাখবার এই পরামর্শ তারা লাভ করেছিলো ইবলিশ শয়তানের কাছ থেকে। সুতরাং, যারা খুবই পেরেশানিতে আছেন যে— মুসলমানরা কেনো ভাস্কর্য আর মূর্তি নিয়ে এতোখানি উত্তেজিত, কিংবা যারা ধরেই নিয়েছেন যে— মূর্খ মুসলমানরা মূর্তি আর ভাস্কর্যের প্রভেদ বুঝতে পারে না, তাদের উদ্দেশ্য…

পুরোটা পড়ুনভাস্কর্যের ভারত্ব

বলয় ভাঙার আগে

[ক] মাঝে মাঝে অনলাইনের অতি-প্রগতিশীল, অতি-নারীবাদী, অতি-আধুনিক ভেকধারীরা মহিলাদের খুব ব্যক্তিগত একটা ব্যাপার, মেনস্ট্রুশান বা পিরিওড নিয়ে হাউকাউ শুরু করে। প্রতিবছরের শুরুতে, বা বছরের মাঝামাঝি কিংবা বছরের শেষান্তে তারা সম্মিলিতভাবে, হুক্কাহুয়া রব তুলে এই ট্যাবু (!) ভাঙার জন্যে সোচ্চার হয়ে উঠে। তাদের লেখাজোকা পড়লে মনে হয়, এই একটা ট্যাবু যদি ভাঙা যায়, বাঙালি জাতিকে বোধকরি আর কেউ বেঁধে রাখতে পারবেনা। এই ট্যাবু ভেঙে গেলে, আমাদের পিটে ইকারুসের পাখা গজানো শুরু করবে, এবং সেই পাখায় ভর করে আমরা স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল সবকিছু জয় করে ফেলবো। কিন্তু, সত্যই কি এই প্রয়াস ট্যাবু ভাঙার? আমরা সবাই জানি, ইসলাম ধর্মে হায়া তথা লজ্জা ব্যাপারটার গুরুত্ব বেশ অনেকখানি। আমাদের ধর্মের একটা বিধান হচ্ছে, বাচ্চারা যখন একটা নির্দিষ্ট বয়স পার করে, যখন তারা নিজ থেকে অনেককিছু বুঝতে শুরু করে, ঠিক তখনই তাদের বিছানা আলাদা করে দিতে হয়। ইসলাম বলে, এই পর্যায়ে যদি বাচ্চারা পৌঁছায়, তাহলে বাবা-মা’র সাথে তারা এক বিছানায় না ঘুমোনোই উত্তম। বাচ্চা ছেলে হোক বা মেয়ে,…

পুরোটা পড়ুনবলয় ভাঙার আগে

স্বপ্ন সুখের বীজ বুনে যাই

[ক] প্রিয় একজন ভাই একদিন খুব মন খারাপ করে ম্যাসেজ করলেন। ম্যাসেজে যা জানালেন তা হচ্ছে,- তার ছেলেটা স্কুল থেকে একটা খেলনা কাউকে না জানিয়ে নিয়ে এসেছে। শুধু তাই নয়, প্রথমে বলেছে এই খেলনা তাকে তার ম্যাম দিয়েছে। পরে বাবা যখন জোর করে সত্যটা জানতে চাইলেন, তখন বললো যে, ও কাউকে না জানিয়েই এই কাজ করেছে। চুরি করে স্কুল থেকে খেলনা বাসায় নিয়ে এসেছে। ভাইটা প্র্যাকটিসিং মুসলিম এবং ছেলেকে দ্বীনের বুনিয়াদি বলয়ে বড় করে তুলছিলেন বলেই ছেলের এই কাজ তাকে খুব বেশি আহত করেছে। ম্যাসেজে তিনি আরো বললেন, ‘আমার তো ইচ্ছে করছে ওকে একটা আছাড় দিয়ে মেরে ফেলি। ওর ঘরভর্তি খেলনা। তা-ও সে এই কাজ করেছে’। তিনি আমার কাছে পরামর্শ চাইলেন এখন তার আসলে কি করা উচিত। আমি বললাম, ছেলেকে বকাঝকা করার কোন দরকার নেই। বাচ্চা মানুষ। সে যা করেছে তা যে ‘চুরি’ হতে পারে, সেই বোধ হয়তো তার মাঝে নেই। এই কাজ যে একপ্রকার ‘চুরি’ এবং এটা যে একটা…

পুরোটা পড়ুনস্বপ্ন সুখের বীজ বুনে যাই

আপনার মানসিক অস্থিরতার ওষুধ

সুখী হওয়ার, স্ট্রেস কমানোর এবং একটা চাপ-বিহীন জীবন যাপনের জন্য যা সবচেয়ে বেশি দরকারি তা হলো— মানুষের ওপর থেকে প্রত্যাশার পারদটাকে যতোটা সম্ভব কমিয়ে আনা। আপনার প্রত্যাশা যতো স্বল্প, ব্যস্ততা এবং অস্থিরতাও ততো কম। প্রত্যাশা যতো বাড়ে, সত্যিকার অর্থে আপনার ব্যস্ততা এবং অস্থিরতাও ততো বেড়ে যায়। একেবারে বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বোঝানোর চেষ্টা করছি। বছর দুয়েক আগে একজন মানুষের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয় এবং তিনি আমার লেখক পরিচয়টাও জানতেন। যেহেতু আমার লেখক পরিচয়টা তিনি জানেন এবং আকারে-ইঙ্গিতে বুঝাতে চান যে তিনি আমার গুণমুগ্ধ পাঠক, ফলে আমি আশা করেছিলাম, আমাকে দেখতে পেয়ে তিনি কী গদগদ-ই না হবেন! আমার সাথে সাক্ষাৎ করে তিনি যারপরনাই খুশি যদিও হয়েছিলেন, কিন্তু একেবারে আত্মহারা হয়ে যাবে বলে আমার অবচেতন মন যে কল্পনা করেছিলো, সেরকমটা না হওয়াতে আমি ভীষণ কষ্ট পাই সেদিন। বেশ অস্থির লাগা শুরু করে ভিতরে ভিতরে। মনে হতে লাগলো— ‘ধুর, দেখা না করলেই ভালো ছিলো’। অন্য আরেকটা আড্ডার কথা বলি। ওই আড্ডায় বইয়ের…

পুরোটা পড়ুনআপনার মানসিক অস্থিরতার ওষুধ

পর্দা-হিজাব কতোখানি ধর্ষণ ঠেকায়?

It's been used just to symbolize the contet

পর্দা-হিজাব কতোখানি ধর্ষণ ঠেকায়? কিংবা, পর্দার বিধান কি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা এজন্যেই নাযিল করেছেন যে— যাতে করে সমাজ থেকে ধর্ষণ, যিনা-ব্যভিচার উঠে যায়? আমার ধারণা এটা একটা ভুল প্রশ্ন। মহিলারা পর্দা-হিজাব করলে ধর্ষণের হার হয়তো কমবে, হয়তো যিনা-ব্যভিচারও হ্রাস পাবে, কিন্তু তা শুধু পর্দা-হিজাব করছে বলেই নয়, ইসলামি অনুশাসন মানুষ মেনে চলছে বলেই। একটা সমাজে পুরুষেরা যদি দৃষ্টির হেফাযত করে এবং মহিলারা যদি পর্দায় নিজেদের আবৃত করে, এবং উভয়দলের অন্তরে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ তাকওয়া বিদ্যমান থাকে, তাহলে ওই সমাজ থেকে ধর্ষণ সহ যাবতীয় অনৈতিক কাজের পরিমান একেবারে কমে আসবে। কিন্তু তবুও কথা হলো— ধর্ষণ কমানোর জন্যই কেবল পর্দা-হিজাবের বিধান আসেনি কিন্তু। এমন একটা দেশের কথা চিন্তা করা যাক যেখানে শারীয়াহ আইন পুরোপুরি কার্যকর। সেখানে চুরি করলে হাত কাটার বিধান আছে, যিনা-ব্যভিচারে পাথর মেরে হত্যার বিধান আছে। রাষ্ট্রীয় আইনে যেহেতু ধর্ষণ জাতীয় ঘটনার কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেখানে কোন পুরুষের সাধ্য নেই কোন মহিলার দিকে হাত বাড়ায়।যেহেতু সেখানে কোন ধর্ষণ হয়…

পুরোটা পড়ুনপর্দা-হিজাব কতোখানি ধর্ষণ ঠেকায়?

আপনার জীবনে যদি কোন ইউসুফ আসে

ইউসুফ যেহেতু তাদের পথের কাঁটা, তাই তাঁকে যেকোনমূল্যে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছালে তাঁর ভাইয়েরা। খেলার নাম করে নিয়ে গিয়ে তারা বালক ইউসুফ আলাইহিস সালামকে একটা কূপের মধ্যে ফেলে দিলো। যদিও ইউসুফকে প্রাণে হত্যা করবার সিদ্ধান্ত থেকে তারা শেষ অবধি সরে এসেছে, তারা চেয়েছে— ইউসুফকে কোন অপরিচিত কাফেলা এতোদূরে নিয়ে যাক যেখান থেকে ইউসুফ আর কোনোদিন পিতার কাছে ফিরতে পারবে না। পিতাও কোনোদিন নাগাল পাবে না ইউসুফের। ভাইদের স্বপ্ন-ই পূরণ হলো। ইউসুফকে কূপে নিক্ষেপের খানিক বাদে বহুদূরগামী একটা কাফেলা সেখানে এসে থামলো এবং ওই কূপ থেকে পানি সংগ্রহের জন্য তাদের একজনকে নিযুক্ত করলো। লোকটা পানি আনতে গিয়ে দেখে কূপের মধ্যে একটা ফুটফুটে বালক সাঁতরে বেড়াচ্ছে আর উপরে উঠে আসার জন্যে হাপিত্যেশ করছে। ইউসুফ আলাইহিস সালামকে দেখে লোকটা মহাখুশি হলো। বললো, ‘বাহ, কী দারুন ব্যাপার! এ-যে দেখছি একেবারে অপ্রত্যাশিত জিনিস!’ লোকটা কূপ থেকে ইউসুফ আলাইহিস সালামকে তুলে আনলো। ওদিকে, একটু দূরে দাঁড়িয়ে ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা দেখতে লাগলো যে…

পুরোটা পড়ুনআপনার জীবনে যদি কোন ইউসুফ আসে